ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে প্রতিদিন একাধিক আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন চলাচল করে। এই রুটে ভ্রমণের জন্য সুবর্ণ এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, মহানগর গোধূলি এবং তূর্ণা এক্সপ্রেস জনপ্রিয়। এই যাত্রা সাধারণত ৫ ঘণ্টা থেকে ৬ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী টিকিট অনলাইনে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেটিং ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd অথবা ‘রেল সেবা’ অ্যাপের মাধ্যমে কিনতে পারবেন।
বাংলাদেশের দুটি প্রধান শহর ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত করতে ট্রেন একটি অসাধারণ মাধ্যম। আরামদায়ক আসন, প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ এবং তুলনামূলক কম খরচে ভ্রমণ এটিকে অনেকের কাছে পছন্দের করে তোলে। আপনি যদি কর্মস্থল বা ব্যক্তিগত কারণে প্রায়শই এই রুটে যাতায়াত করেন, তাহলে ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া এবং টিকিট কেনার সঠিক পদ্ধতি জানা আপনাকে অনেক সুবিধা দেবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেন: একটি দ্রুত নজর
ঢাকা এবং চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। দেশের রাজধানী ঢাকা থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ২৫৮ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ পথে যাত্রীরা আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের জন্য ট্রেন বেছে নেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে এই রুটে বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন পরিচালনা করে।
কেন ট্রেন ভ্রমণ সেরা পছন্দ?
ট্রেনে ভ্রমণ অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় অনেক আরামদায়ক। আপনি জানালার পাশে বসে বাইরের দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। দীর্ঘ যাত্রায় পায়ে হেঁটে একটু চলাফেরাও করা যায়। বাসের তুলনায় ট্রেনে নিরাপত্তা বেশি এবং ভাড়া সাশ্রয়ী হয়। এটি পরিবেশবান্ধবও বটে।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী 2026
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন বিভিন্ন সময়ে ট্রেন ছেড়ে যায়। নিচে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর একটি তালিকা এবং তাদের ছাড়ার ও পৌঁছানোর সময় দেওয়া হলো। মনে রাখবেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের সময়সূচী পরিবর্তন হতে পারে, তাই টিকিট কাটার আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেনসমূহ (ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম)
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন চলে। এর মধ্যে কিছু ট্রেন ননস্টপ সার্ভিস দেয়।
- সুবর্ণ এক্সপ্রেস (702): এটি একটি জনপ্রিয় ননস্টপ ট্রেন।
- মহানগর প্রভাতী (704): সকালের দিকে যাত্রা শুরু করে।
- মহানগর এক্সপ্রেস (722): রাতের বেলায় যাত্রা করে।
- তূর্ণা এক্সপ্রেস (742): গভীর রাতে ছেড়ে যায়।
- সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (788): এটিও একটি ননস্টপ এবং দ্রুতগামী ট্রেন।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী
এই রুটে ঢাকা, বিশেষ করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু হয়। প্রতিটি ট্রেনের একটি নির্দিষ্ট ছুটির দিন আছে।
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নং | ছুটির দিন | ছাড়ার সময় (ঢাকা) | পৌঁছানোর সময় (চট্টগ্রাম) | ভ্রমণ সময় |
|---|---|---|---|---|---|
| সুবর্ণ এক্সপ্রেস | 702 | সোমবার | বিকাল 04:47 | রাত 09:50 | ৫ ঘণ্টা ৩ মিনিট |
| মহানগর প্রভাতী | 704 | নেই | সকাল 07:45 | দুপুর 02:05 | ৬ ঘণ্টা ২০ মিনিট |
| মহানগর এক্সপ্রেস | 722 | রবিবার | রাত 09:20 | ভোর 04:50 | ৭ ঘণ্টা ৩০ মিনিট |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস | 742 | নেই | রাত 11:30 | ভোর 06:20 | ৬ ঘণ্টা ৫০ মিনিট |
| সোনার বাংলা এক্সপ্রেস | 788 | বুধবার | সকাল 07:00 | দুপুর 12:20 | ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিট |
মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনসমূহ (ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম):
আন্তঃনগর ট্রেন ছাড়াও কিছু মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেন এই রুটে চলাচল করে, যা সাধারণত বেশি স্টেশনে থামে এবং ভ্রমণ সময় বেশি লাগে।
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নং | ছুটির দিন | ছাড়ার সময় (ঢাকা) | পৌঁছানোর সময় (চট্টগ্রাম) | ভ্রমণ সময় |
|---|---|---|---|---|---|
| চট্টগ্রাম মেইল | 02 | নেই | রাত 10:30 | সকাল 07:25 | ৮ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট |
| কর্ণফুলী এক্সপ্রেস | 04 | নেই | সকাল 08:30 | সন্ধ্যা 06:30 | ১০ ঘণ্টা |
| চট্টলা এক্সপ্রেস | 64 | মঙ্গলবার | দুপুর 01:05 | রাত 08:55 | ৭ ঘণ্টা ৫০ মিনিট |
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী 2026
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যেও নিয়মিত ট্রেন চলাচল করে। যারা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরে আসতে চান, তাদের জন্য এই সময়সূচী খুবই দরকারি।
জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেনসমূহ (চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা)
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকেও সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস দ্রুততম সেবা প্রদান করে।
- সুবর্ণ এক্সপ্রেস (701): সকালের দিকে যাত্রা করে।
- মহানগর প্রভাতী (703): দুপুরের পর ছেড়ে যায়।
- মহানগর এক্সপ্রেস (721): মধ্যদিনে যাত্রা শুরু করে।
- তূর্ণা এক্সপ্রেস (741): রাতের দিকে ছেড়ে আসে।
- সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (787): এটিও সকালের একটি দ্রুত ট্রেন।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের দিকে ট্রেনগুলো নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রা শুরু করে।
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নং | ছুটির দিন | ছাড়ার সময় (চট্টগ্রাম) | পৌঁছানোর সময় (ঢাকা) | ভ্রমণ সময় |
|---|---|---|---|---|---|
| সুবর্ণ এক্সপ্রেস | 701 | সোমবার | সকাল 07:00 | দুপুর 12:10 | ৫ ঘণ্টা ১০ মিনিট |
| মহানগর প্রভাতী | 703 | নেই | বিকাল 03:00 | রাত 10:55 | ৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট |
| মহানগর এক্সপ্রেস | 721 | রবিবার | দুপুর 12:30 | সন্ধ্যা 06:45 | ৬ ঘণ্টা ১৫ মিনিট |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস | 741 | নেই | রাত 11:30 | ভোর 05:15 | ৫ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট |
| সোনার বাংলা এক্সপ্রেস | 787 | মঙ্গলবার | বিকাল 04:45 | রাত 09:40 | ৪ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট |
মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনসমূহ (চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা):
মেইল ট্রেনগুলো যাত্রীদের জন্য কম খরচে ভ্রমণের সুযোগ দেয়।
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নং | ছুটির দিন | ছাড়ার সময় (চট্টগ্রাম) | পৌঁছানোর সময় (ঢাকা) | ভ্রমণ সময় |
|---|---|---|---|---|---|
| ঢাকা মেইল | 01 | নেই | রাত 10:30 | সকাল 06:55 | ৮ ঘণ্টা ২৫ মিনিট |
| কর্ণফুলী | 03 | নেই | সকাল 10:00 | সন্ধ্যা 07:45 | ৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট |
| চাট্টলা এক্সপ্রেস | 67 | মঙ্গলবার | সকাল 08:15 | বিকাল 03:35 | ৭ ঘণ্টা ২০ মিনিট |
ট্রেনের টিকেটের মূল্য এবং শ্রেণী
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বিভিন্ন শ্রেণীর টিকিট পাওয়া যায়, যা যাত্রীদের বাজেট ও আরামের চাহিদা মেটায়। টিকিটের মূল্য আসনের সুবিধার ওপর নির্ভর করে।
বিভিন্ন শ্রেণীর টিকেট
- শোভন (Shovan): এটি সবচেয়ে সাধারণ এবং সাশ্রয়ী শ্রেণী।
- শোভন চেয়ার (Shovan Chair): শোভনের চেয়ে কিছুটা উন্নত, বসার জন্য চেয়ার থাকে।
- প্রথম সিট (First Seat): তুলনামূলক বেশি আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা।
- প্রথম বার্থ (First Berth): ঘুমানোর ব্যবস্থা থাকে, যা দীর্ঘ যাত্রার জন্য উপযুক্ত।
- স্নিগ্ধা (Snigdha): শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার। এটি বেশ জনপ্রিয়।
- এসি সিট (AC Seat): শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বসার ব্যবস্থা।
- এসি বার্থ (AC Berth): শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘুমানোর ব্যবস্থা, সবচেয়ে বিলাসবহুল শ্রেণী।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের ভাড়ার তালিকা 2026
নিচের তালিকাটি 2026 সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে, বাংলাদেশ রেলওয়ে যেকোনো সময় ভাড়া পরিবর্তন করতে পারে।
| আসন বিভাগ | টিকিটের মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| শোভন | 325 |
| শোভন চেয়ার | 450 |
| প্রথম শ্রেণী (সিট) | 621 |
| প্রথম শ্রেণী (বার্থ) | 932 |
| স্নিগ্ধা (AC Chair) | 855 |
| এসি সিট (AC Seat) | 1025 |
| এসি বার্থ (AC Berth) | 1398 |
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্প্রতি সেতু ব্যবহারের জন্য “পন্টেজ চার্জ” সমন্বয় করে কিছু রুটে ভাড়া বাড়িয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বাণিজ্যিক দূরত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় স্নিগ্ধা টিকিটের ভাড়া 855 টাকা থেকে 943 টাকা হয়েছে, ফার্স্ট বার্থ 1,025 টাকা থেকে 1,133 টাকা এবং এসি সিট 1,590 টাকা থেকে 1,746 টাকা হয়েছে। এই নতুন ভাড়া 20 ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
কিভাবে ট্রেনের টিকেট কিনবেন: ধাপে ধাপে নির্দেশিকা
ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য বর্তমানে দুটি প্রধান পদ্ধতি রয়েছে: অনলাইনে এবং স্টেশনের কাউন্টারে। অনলাইনে টিকিট কাটা খুবই সহজ এবং সময় বাঁচায়।
অনলাইনে টিকেট বুকিং
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়, বিশেষ করে ঈদের মতো সময়ে। আপনি ঘরে বসেই কম্পিউটার বা মোবাইল থেকে টিকিট কিনতে পারবেন।
- রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd অথবা ‘রেল সেবা’ অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করুন। আপনার এনআইডি, ই-মেইল, ফোন নম্বর এবং ব্যক্তিগত তথ্য দিন।
- ভেরিফিকেশন: আপনার মোবাইলে একটি ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) আসবে। এটি সঠিকভাবে পূরণ করে ভেরিফাই করুন।
- লগইন: রেজিস্ট্রেশন সফল হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগইন হয়ে যাবে। পরবর্তীতে ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে পারবেন।
- টিকিট খোঁজা: আপনার ভ্রমণের তারিখ, শুরুর স্টেশন (ঢাকা কমলাপুর), গন্তব্য স্টেশন (চট্টগ্রাম), এবং শ্রেণী পূরণ করে ‘ফাইন্ড টিকিট’ বাটনে ক্লিক করুন।
- ট্রেন নির্বাচন: পরের পৃষ্ঠায় ট্রেনের নাম, আসন আছে কিনা এবং ছাড়ার সময় দেখতে পাবেন। আপনার পছন্দের ট্রেন অনুযায়ী ‘ভিউ সিটস’ এ ক্লিক করুন।
- আসন নির্বাচন: খালি থাকা সাপেক্ষে আপনার পছন্দের আসনগুলো নির্বাচন করুন। একজন যাত্রী একসাথে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কিনতে পারেন।
- মূল্য পরিশোধ: বিকাশ, নগদ, ভিসা কার্ড বা মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করুন। পেমেন্ট সফল হলে একটি ই-টিকিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হবে এবং আপনার ই-মেইলে চলে যাবে।
- টিকিট প্রিন্ট: ই-মেইল থেকে টিকিট প্রিন্ট করে ফটো আইডিসহ স্টেশনের কাউন্টার থেকে যাত্রার আগে ছাপানো টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।
বিশেষ টিপস: অনলাইনে ট্রেনের টিকিট যাত্রার দশ দিন আগে কাটা যায়। সকাল 08:01 থেকে রাত 11:44 পর্যন্ত যেকোনো সময় টিকিট কাটতে পারবেন। একটি অ্যাকাউন্ট দিয়ে এক সপ্তাহে দুই বারের বেশি টিকিট কেনা যায় না।
কাউন্টারে টিকেট ক্রয়
যারা অনলাইনে টিকিট কাটতে অভ্যস্ত নন, তারা সরাসরি রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিট কিনতে পারেন।
- স্টেশনে যান: আপনার নিকটস্থ রেলওয়ে স্টেশন, যেমন ঢাকা কমলাপুর বা চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যান।
- কাউন্টারে জিজ্ঞাসা: টিকিট কাউন্টারে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেনের সময়সূচী এবং ভাড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন।
- তথ্য প্রদান: আপনি কোন ট্রেনে এবং কোন শ্রেণীর টিকিট চান, তা কাউন্টারে বলুন। আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হতে পারে।
- মূল্য পরিশোধ: টিকিটের মূল্য পরিশোধ করুন এবং টিকিট সংগ্রহ করুন।
আপনার যাত্রা আরামদায়ক করতে কিছু টিপস
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ট্রেনে ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করতে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে পারেন:
- সময়মতো পৌঁছান: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছান। এতে তাড়াহুড়ো এড়ানো যাবে।
- পরিচয়পত্র সাথে রাখুন: টিকিট চেকিং এর সময় আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হতে পারে।
- আগে টিকিট কিনুন: বিশেষ করে ছুটির দিন বা উৎসবের আগে টিকিট দ্রুত ফুরিয়ে যায়। তাই যাত্রার কমপক্ষে দশ দিন আগে টিকিট কিনে রাখুন।
- হালকা খাবার ও পানীয়: ট্রেনে সাধারণত ক্যান্টিন থাকে, তবে নিজের পছন্দের কিছু হালকা খাবার ও পানীয় সাথে রাখা ভালো।
- চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক: মোবাইলের চার্জ শেষ হলে সমস্যা হতে পারে। তাই পাওয়ার ব্যাংক বা পোর্টেবল চার্জার সাথে রাখুন।
- ব্যাগপত্র সুরক্ষিত রাখুন: আপনার লাগেজ বা ব্যাগপত্র নিজের কাছে রাখুন এবং সতর্ক থাকুন।
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: ট্রেনের ভেতরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সহায়তা করুন। বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ট্রেন ভ্রমণের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা থাকলে আপনার অভিজ্ঞতা আরও ভালো হবে।
বিশেষ দিবসে ট্রেনের সিডিউল
ঈদ, পূজা বা অন্যান্য জাতীয় ছুটির দিনে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করে এবং সিডিউলে পরিবর্তন আনতে পারে। এই সময়ে টিকিট চাহিদা অনেক বেশি থাকে, তাই অগ্রিম টিকিট কাটতে হয়। 2026 সালের ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে 12 থেকে 16 জুনের টিকিট 2 থেকে 6 জুন বিক্রি করা হয়েছে।
বিলম্ব এবং আপনার করণীয়
ট্রেনে মাঝে মাঝে বিলম্ব হতে পারে। আবহাওয়া, যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে এমনটা হয়। দেরির ক্ষেত্রে স্টেশন থেকে ঘোষণা শুনে নিন বা রেলওয়ের হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন। আপনার যাত্রায় কিছুটা অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বের হওয়া ভালো।
প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ছাড়
বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রবীণ (৬৫+ বছর) এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাড়ায় ছাড় দেয়। প্রবীণদের জন্য ২৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়। অনলাইনে টিকিট কেনার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটা থেকে বয়স স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয়।
রেলপথ মন্ত্রীর বক্তব্য
রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং রেল ভ্রমণকে আরামদায়ক করতে দেশের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর ৮০ শতাংশ পুরোনো রেক পরিবর্তন করে নতুন রেক সংযোজন করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে এবং নারী ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, আলাদা কাউন্টার, স্বতন্ত্র টয়লেট, হুইলচেয়ার ও র্যাম্প সুবিধা চালু করা হয়েছে।