ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা ২০২৬

ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এই ট্রেনগুলো আরামদায়ক এবং নিরাপদ ভ্রমণের সুযোগ দেয়। আপনি যদি ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে চান, তবে পদ্মা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস, ধুমকেতু এক্সপ্রেস এবং মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণত, এই রুটে ট্রেনে ৪.৫ থেকে ৮.৫ ঘণ্টা সময় লাগে। প্রতিটি ট্রেনের নির্দিষ্ট সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা রয়েছে।

এই বিস্তারিত নির্দেশিকায়, আপনি ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী, ট্রেনের ভাড়ার তালিকা, টিকিট কাটার সহজ নিয়মাবলী এবং ভ্রমণ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য পাবেন। এই নিবন্ধটি আপনাকে ঢাকা থেকে রাজশাহীর ট্রেন যাত্রা ভালোভাবে পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে। আপনার যাত্রা যেন ঝামেলামুক্ত ও আনন্দদায়ক হয়, তার সব প্রয়োজনীয় তথ্য এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

ঢাকা টু রাজশাহী রুটের ট্রেনসমূহ

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান শহর রাজশাহী পর্যন্ত রেলপথে মোট পাঁচটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। প্রতিটি ট্রেন নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও সেবা নিয়ে যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত।

  • পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৫৯): এটি একটি জনপ্রিয় রাতের ট্রেন।
  • সিল্কসিটি এক্সপ্রেস (৭৫৩): দিনের বেলায় আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য এটি পরিচিত।
  • বনলতা এক্সপ্রেস (৭৯১): এটি এই রুটের একটি দ্রুতগতির ও আধুনিক ট্রেন।
  • ধুমকেতু এক্সপ্রেস (৭৬৯): সকালে ঢাকা ছেড়ে রাজশাহীর দিকে যায়।
  • মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৫): এই ট্রেনটি পদ্মা সেতু হয়ে চলাচল করে, যা একটি ভিন্ন রুটের অভিজ্ঞতা দেয়।

ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী

ঢাকা থেকে রাজশাহী রুটে চলাচলকারী প্রতিটি ট্রেনের ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময় এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিন আলাদা। আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা করার জন্য এই সময়সূচী জেনে রাখা খুব জরুরি। নিচে একটি সারণীতে বিস্তারিত সময়সূচী দেওয়া হলো।

ট্রেনের নাম ট্রেন নম্বর ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় রাজশাহী পৌঁছানোর সময় সাপ্তাহিক ছুটির দিন মোট সময় লাগে (আনুমানিক)
ধুমকেতু এক্সপ্রেস ৭৬৯ সকাল ৬:০০ সকাল ১১:৪০ বৃহস্পতিবার ৫ ঘন্টা ৪০ মিনিট
বনলতা এক্সপ্রেস ৭৯১ দুপুর ১:৩০ সন্ধ্যা ৫:৪৫ শুক্রবার ৪ ঘন্টা ১৫ মিনিট
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ৭৫৩ দুপুর ২:৩০ রাত ৮:২০ রবিবার ৫ ঘন্টা ৫০ মিনিট
মধুমতি এক্সপ্রেস ৭৫৫ দুপুর ৩:০০ রাত ১০:৩০ শনিবার ৭ ঘন্টা ৩০ মিনিট
পদ্মা এক্সপ্রেস ৭৫৯ রাত ১০:৪৫ ভোর ৪:০০ মঙ্গলবার ৫ ঘন্টা ১৫ মিনিট

বিশেষ দ্রষ্টব্য: মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি পদ্মা সেতু হয়ে চলাচল করে, তাই এর সময় কিছুটা বেশি লাগে। অন্যান্য ট্রেনগুলো বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঈশ্বরদী বাইপাস হয়ে চলাচল করে।

ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনের ভাড়ার তালিকা

ঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেনের টিকিট মূল্য বিভিন্ন আসন বিভাগ অনুযায়ী ভিন্ন হয়। প্রতিটি যাত্রীর বাজেট এবং আরামের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন শ্রেণির টিকিট পাওয়া যায়। নিচে ২০২৬ সালের আপডেটেড ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো।

আসন বিভাগ ভাড়ার পরিমাণ (আনুমানিক)
শোভন ৩৪০ – ৪৫০ টাকা
শোভন চেয়ার ৪৫০ – ৪৯৫ টাকা
স্নিগ্ধা (AC Chair) ৮৬৩ – ৯৪৯ টাকা
এসি সিট ১০৩৫ – ১১৩৯ টাকা
এসি বার্থ ১৫৯৭ টাকা

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • অনলাইন টিকিট বুকিং করলে ভাড়ার সাথে অতিরিক্ত ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ যোগ হতে পারে।
  • এসি বার্থ শ্রেণীর টিকিটের সাথে ৫০ টাকা বেডিং চার্জ যোগ হতে পারে।
  • ভাড়ার পরিমাণ বাংলাদেশ রেলওয়ের নীতিমালা অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে।

ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনের টিকিট কাটা এখন অনেক সহজ। আপনি অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

অনলাইন টিকিট বুকিং

ঘরে বসেই অনলাইনে টিকিট কেনার সুবিধা থাকায় যাত্রীরা এখন লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এড়াতে পারেন।

ধাপ ১: পোর্টাল বা অ্যাপ নির্বাচন

বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকেটিং ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd ব্যবহার করুন অথবা Rail Sheba মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন।

ধাপ ২: রেজিস্ট্রেশন বা লগইন

যদি আপনার অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে আপনার নাম, ইমেইল, মোবাইল নম্বর এবং একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে প্রোফাইল সম্পূর্ণ করুন। অ্যাকাউন্ট থাকলে সরাসরি লগইন করুন।

ধাপ ৩: ভ্রমণের তথ্য দিন

যাত্রা শুরুর স্টেশন (ঢাকা), গন্তব্য স্টেশন (রাজশাহী), ভ্রমণের তারিখ এবং টিকিটের ক্লাস (যেমন: শোভন, স্নিগ্ধা, এসি সিট) নির্বাচন করুন। এরপর “সার্চ ট্রেন” বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৪: ট্রেন ও সিট নির্বাচন

উপলভ্য ট্রেনের তালিকা থেকে আপনার পছন্দের ট্রেনটি বেছে নিন। এরপর সিট অ্যাভেইলেবিলিটি দেখে আপনার পছন্দের আসনগুলো নির্বাচন করুন। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কাটতে পারবেন।

ধাপ ৫: পেমেন্ট সম্পন্ন করুন

টিকিটের ভাড়া পরিশোধ করার জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন: bKash, Nagad, Rocket, Upay, Visa কার্ড, Mastercard, বা DBBL Nexus কার্ড।

ধাপ ৬: টিকিট ডাউনলোড

পেমেন্ট সফল হলে আপনার টিকিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হবে বা আপনার ইমেইলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আপনি অ্যাপের “History” বিভাগ থেকেও টিকিট ডাউনলোড করতে পারবেন।

স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট

যারা অনলাইনে টিকিট কাটতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না, তারা সরাসরি রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন বা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন-এর টিকিট কাউন্টারে যান।

কর্মকর্তাকে আপনার গন্তব্য (রাজশাহী), ভ্রমণের তারিখ এবং পছন্দের আসন বিভাগ জানান।

নগদ অর্থে ভাড়া পরিশোধ করে টিকিট সংগ্রহ করুন।

আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সাধারণত যাত্রার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে বিক্রি শুরু হয়, তবে অগ্রিম টিকিট পেতে আগেভাগে যাওয়াই ভালো।

ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনের রুট এবং স্টপিস

ঢাকা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত রেলপথে প্রায় ৩৪৩ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। সড়কপথে এই দূরত্ব প্রায় ২৪৭ কিলোমিটার। ট্রেনের ধরন এবং রুটের ওপর নির্ভর করে যাত্রার সময় ৪.৫ থেকে ৮.৫ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।

বেশিরভাগ ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনগুলো বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঈশ্বরদী বাইপাস রুটে চলাচল করে। মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভিন্ন রুটে, অর্থাৎ পদ্মা সেতু হয়ে চলাচল করে।

সাধারণ স্টপিস স্টেশনসমূহ (পদ্মা, ধুমকেতু, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস)

  • ঢাকা কমলাপুর
  • ঢাকা বিমানবন্দর
  • জয়দেবপুর
  • টাঙ্গাইল
  • বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব
  • এসএইচ এম মনসুর আলী
  • উল্লাপাড়া
  • বড়াল ব্রিজ
  • চাটমোহর
  • ঈশ্বরদী বাইপাস
  • আব্দুলপুর
  • আড়ানি
  • সরদহ রোড
  • রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন

মধুমতি এক্সপ্রেসের স্টপিস স্টেশনসমূহ (পদ্মা সেতু রুট)

  • ঢাকা কমলাপুর
  • মাওয়া
  • পদ্মা রেলওয়ে স্টেশন
  • শিবচর
  • ভাঙ্গা
  • ফরিদপুর
  • রাজবাড়ী
  • পোড়াদহ
  • ঈশ্বরদী
  • রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন

ভ্রমণ টিপস ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেন যাত্রা মসৃণ করতে কিছু টিপস ও তথ্য জেনে রাখা ভালো। এতে আপনার ভ্রমণ আরও আরামদায়ক হবে।

  • টিকিট অগ্রিম বুক করুন: ছুটির দিন বা উৎসবের সময় টিকিট দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। তাই অন্তত ১০ দিন আগে টিকিট বুক করা বুদ্ধিমানের কাজ।
  • সঠিক আইডি সাথে রাখুন: ই-টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করার সময় আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা বৈধ আইডি কার্ড সাথে রাখুন।
  • সময়সূচী পরীক্ষা করুন: যাত্রার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট বা Rail Sheba অ্যাপ থেকে ট্রেনের সর্বশেষ সময়সূচী নিশ্চিত করুন।
  • রিফান্ড নীতি: টিকিট বাতিলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের রিফান্ড নীতি মেনে চলা হয়। যাত্রা শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে বাতিল করলে আংশিক রিফান্ড পাওয়া যেতে পারে।
  • অফ-পিক আওয়ারে ভ্রমণ: ভিড় এড়াতে এবং আরও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ব্যস্ত সময় এড়িয়ে চলুন।

ট্রেন ভ্রমণ বাংলাদেশের অন্যতম নিরাপদ ও মনোরম একটি মাধ্যম। রাস্তার যানজট এড়িয়ে প্রকৃতির সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করতে করতে আপনি আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

ঢাকা টু রাজশাহী রুটে ট্রেন ভ্রমণ একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা হতে পারে। সঠিক তথ্য এবং প্রস্তুতি আপনার যাত্রাকে আরও আনন্দময় করে তুলবে। সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা জেনে, আপনার পছন্দের ট্রেন ও আসন বেছে নিয়ে টিকিট বুক করুন। আপনার যাত্রা শুভ হোক!

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী

ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে ট্রেনে কত সময় লাগে?

ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে ট্রেনের ধরন ও রুটের ওপর নির্ভর করে ৪ ঘন্টা ১৫ মিনিট থেকে ৭ ঘন্টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মধুমতি এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৮ ঘন্টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগে।

ঢাকা টু রাজশাহী রুটে প্রতিদিন কয়টি ট্রেন চলাচল করে?

ঢাকা টু রাজশাহী রুটে পাঁচটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে: পদ্মা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস, ধুমকেতু এক্সপ্রেস এবং মধুমতি এক্সপ্রেস।

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কিভাবে কাটা যায়?

আপনি বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা Rail Sheba মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে টিকিট কাটতে পারবেন।

ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনের টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য কত?

ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনের টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য এসি বার্থের জন্য প্রায় ১৫৯৭ টাকা। বিভিন্ন আসন বিভাগ অনুযায়ী ভাড়ার তারতম্য হয়।

টিকিট কত দিন আগে বুক করা যায়?

সাধারণত, ট্রেনের টিকিট যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে বুক করা যায়। ছুটির দিন বা বিশেষ উপলক্ষে দ্রুত টিকিট শেষ হয়ে যায়, তাই আগে বুক করা উচিত।

Leave a Comment