আপনি কি ভেবে দেখেছেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ঢাকা থেকে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার খুলনায় পৌঁছে যাওয়া সম্ভব? একসময় এই যাত্রা ছিল দীর্ঘ আর ক্লান্তিকর। তবে এখন সেই দিন বদলে গেছে। আধুনিক ট্রেনের হাত ধরে ঢাকা আর খুলনার দূরত্ব কমে এসেছে অনেকটা। এই দ্রুত, আরামদায়ক আর নিরাপদ ভ্রমণ আপনার সময় বাঁচাবে, ক্লান্তি দূর করবে এবং নতুন এক অভিজ্ঞতার দুয়ার খুলে দেবে।
এই ব্লগ পোস্টে, আমরা ঢাকা থেকে খুলনা রুটের সব ট্রেনের সময়সূচী, টিকেটের মূল্য এবং আপনার ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য তুলে ধরব। আপনি জানতে পারবেন কোন ট্রেন কখন ছাড়ে, কখন পৌঁছায়, কোন ক্লাসের টিকেটের দাম কত, আর কিভাবে সহজেই টিকেট কাটতে পারবেন। খুলনা ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে, এই পোস্টটি আপনার জন্য একটি সম্পূর্ণ গাইড হিসেবে কাজ করবে।
কেন ট্রেনে ঢাকা থেকে খুলনা যাবেন?
ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব বেশ খানিকটা। এই পথে ভ্রমণের জন্য অনেক বিকল্প থাকলেও, ট্রেন ভ্রমণ তার নিজস্ব কিছু সুবিধার জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। ট্রেন যাত্রা আপনাকে দেবে আরাম, নিরাপত্তা এবং প্রকৃতির এক অন্যরকম স্বাদ।
ট্রেন ভ্রমণের দারুণ সুবিধা
ট্রেনে ভ্রমণ করার অনেক ভালো দিক আছে। এটি শুধু আপনাকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায় না, বরং পথের ক্লান্তিও দূর করে দেয়।
- আরামদায়ক যাত্রা: ট্রেনের আসনগুলো বড় এবং আরামদায়ক হয়। লম্বা যাত্রায় পা ছড়িয়ে বসার বা হাঁটার সুযোগ থাকে, যা বাসের মতো ছোট জায়গায় সম্ভব নয়।
- নিরাপত্তা: ট্রেন দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম হয়। এটি সড়কপথের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ একটি মাধ্যম।
- সময়ানুবর্তিতা: ট্রেনের সময়সূচী সাধারণত বেশ সুনির্দিষ্ট হয়। যদিও কখনো কখনো বিলম্ব হতে পারে, তবে বেশিরভাগ সময়ই ট্রেন সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছায়।
- পরিবেশবান্ধব: ট্রেন অন্যান্য যানবাহনের চেয়ে কম কার্বন নির্গমন করে, যা পরিবেশের জন্য ভালো।
- দৃশ্য উপভোগ: ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরের সুন্দর গ্রাম, মাঠ আর নদীর দৃশ্য দেখতে দেখতে যেতে পারবেন। এটি আপনার যাত্রাকে আরও আনন্দময় করে তোলে।
- পদ্মা সেতুর অভিজ্ঞতা: নতুন পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন এখন দ্রুত খুলনা পৌঁছায়, যা একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা।
ঢাকা টু খুলনা রুট: একটি নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশের রেল যোগাযোগে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে পদ্মা সেতু। এই সেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন চালু হওয়ায় ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়ার সময় অনেক কমে এসেছে। এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য এক বিশাল সুবিধা এনে দিয়েছে।
পদ্মা সেতুর মাধ্যমে রেল যোগাযোগ
পদ্মা সেতু শুধু একটি সড়ক সেতু নয়, এটি রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এনেছে। আগে যেখানে ঢাকা থেকে খুলনা যেতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন তা কমে এসেছে অনেকটাই। নতুন রেলপথের কারণে এই যাত্রা এখন অনেক দ্রুত ও সহজ।
ঢাকা টু খুলনা রুটে চলাচলকারী ট্রেনসমূহ
ঢাকা থেকে খুলনা রুটে বর্তমানে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এই ট্রেনগুলো যাত্রীদের আরামদায়ক এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করে।
- সুন্দরবন এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭২৬): এটি দিনের বেলায় চলাচলকারী একটি জনপ্রিয় ট্রেন।
- চিত্রা এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭৬৪): এটি রাতের বেলায় চলাচলকারী একটি ট্রেন।
- জাহানাবাদ এক্সপ্রেস: এটি পদ্মা সেতু হয়ে চলাচলকারী নতুন এবং দ্রুতগতির ট্রেন।
ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী
আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা করার জন্য ট্রেনের সঠিক সময়সূচী জানা খুবই জরুরি। নিচে ঢাকা থেকে খুলনাগামী প্রতিটি ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী দেওয়া হলো।
সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৬)
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সকালে ছেড়ে যায়। এটি দিনের আলোতে খুলনা পৌঁছায়, তাই পথের দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | ঢাকা ছাড়ার সময় | খুলনা পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক ছুটি |
|---|---|---|---|---|
| সুন্দরবন এক্সপ্রেস | ৭২৬ | সকাল ৮:১৫ | বিকাল ৫:৪০ | বুধবার |
এই ট্রেনটি সপ্তাহের ছয় দিন চলাচল করে, শুধুমাত্র বুধবার বন্ধ থাকে।
চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৪)
চিত্রা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সন্ধ্যায় যাত্রা শুরু করে এবং ভোর রাতে খুলনায় পৌঁছায়। যারা রাতের ভ্রমণ পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প।
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | ঢাকা ছাড়ার সময় | খুলনা পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক ছুটি |
|---|---|---|---|---|
| চিত্রা এক্সপ্রেস | ৭৬৪ | সন্ধ্যা ৭:০০ | ভোর ৩:৪০ | সোমবার |
চিত্রা এক্সপ্রেস সোমবার বাদে সপ্তাহের বাকি ছয় দিন চলাচল করে।
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস (পদ্মা সেতু রুট)
পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচলকারী জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে খুলনা যাত্রার সময় অনেক কমিয়ে দিয়েছে। এটি দ্রুততম ট্রেনগুলির মধ্যে একটি।
| ট্রেনের নাম | ঢাকা ছাড়ার সময় | খুলনা পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক ছুটি | আনুমানিক সময় |
|---|---|---|---|---|
| জাহানাবাদ এক্সপ্রেস | রাত ৮:০০ | রাত ১১:৪০ | সোমবার | ৩ ঘন্টা ৪০ মিনিট |
এই ট্রেনটি সোমবার বাদে প্রতিদিন চলাচল করে। এটি ঢাকা থেকে খুলনায় প্রায় ৩ ঘন্টা ৪০ মিনিটে পৌঁছে যায়।
বি.দ্র.: খুলনা থেকে ঢাকার জন্যও জাহানাবাদ এক্সপ্রেস চালু আছে। এটি খুলনা থেকে সকাল ৬:০০ টায় ছেড়ে সকাল ৯:৪৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়।
ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের টিকেটের মূল্য
ট্রেনের টিকেটের মূল্য বিভিন্ন শ্রেণী এবং ট্রেনের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়। আপনার বাজেট এবং আরামের কথা মাথায় রেখে আপনি আপনার পছন্দের শ্রেণী বেছে নিতে পারেন।
সুন্দরবন এক্সপ্রেসের টিকেটের মূল্য তালিকা
সুন্দরবন এক্সপ্রেসে বিভিন্ন শ্রেণীর আসন রয়েছে, যা যাত্রীদের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে।
| আসন শ্রেণী | টিকেটের মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৫০৫ |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ৯৬৬ |
| এসি বার্থ | ১১৫৬ |
এই মূল্যগুলি সুন্দরবন এক্সপ্রেসের জন্য প্রযোজ্য।
চিত্রা এক্সপ্রেসের টিকেটের মূল্য তালিকা
চিত্রা এক্সপ্রেসেও বিভিন্ন শ্রেণীর আসন পাওয়া যায়।
| আসন শ্রেণী | টিকেটের মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৬২৫ |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ১১৯৬ |
চিত্রা এক্সপ্রেসের টিকেটের মূল্য উপরোক্ত তালিকা অনুযায়ী।
জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের (পদ্মা সেতু রুট) টিকেটের মূল্য তালিকা
পদ্মা সেতু হয়ে চলাচলকারী জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের টিকেটের মূল্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী এবং দ্রুত ভ্রমণের সুযোগ দেয়।
| আসন শ্রেণী | টিকেটের মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৪৪৫ |
| এসি সিট | ৮৮৫ |
| এসি বার্থ | ১৩৩০ |
এই মূল্যগুলি পদ্মা সেতু হয়ে চলাচলকারী ট্রেনের জন্য প্রযোজ্য।
ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের টিকেট কিভাবে কাটবেন?
ট্রেনের টিকেট কাটা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। আপনি বাড়িতে বসেই অনলাইনে টিকেট কাটতে পারবেন অথবা স্টেশনে গিয়েও টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন।
অনলাইনে টিকেট কাটার নিয়ম
অনলাইনে টিকেট কাটা সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায়। এটি আপনাকে লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা থেকে মুক্তি দেবে।
- বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেটিং ওয়েবসাইটে যান: প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেটিং ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।
- রেজিস্ট্রেশন করুন: যদি আপনার অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। এর জন্য আপনার নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেল আইডি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর প্রয়োজন হবে।
- লগইন করুন: আপনার ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
- যাত্রার তথ্য দিন: ‘From’ অপশনে ঢাকা এবং ‘To’ অপশনে খুলনা নির্বাচন করুন। আপনার যাত্রার তারিখ এবং ট্রেনের শ্রেণী (যেমন: শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা) বেছে নিন।
- ট্রেন নির্বাচন করুন: উপলব্ধ ট্রেনের তালিকা থেকে আপনার পছন্দের ট্রেন (যেমন: সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস, জাহানাবাদ এক্সপ্রেস) এবং সময় বেছে নিন।
- আসন নির্বাচন করুন: ট্রেনের বগির নকশা থেকে আপনার পছন্দের আসন নির্বাচন করুন।
- পেমেন্ট করুন: মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ) বা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে টিকেটের মূল্য পরিশোধ করুন।
- টিকেট ডাউনলোড/প্রিন্ট করুন: পেমেন্ট সফল হলে আপনার টিকেটটি ডাউনলোড করে নিন অথবা প্রিন্ট করে নিন। যাত্রার সময় এর একটি প্রিন্ট কপি বা সফট কপি সঙ্গে রাখুন।
স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকেট কাটা
যারা অনলাইনে টিকেট কাটতে স্বচ্ছন্দ নন, তারা সরাসরি স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকেট কিনতে পারবেন।
- কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন: ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকেট কিনতে পারবেন।
- খুলনা রেলওয়ে স্টেশন: খুলনার রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকেও ফিরতি টিকেট বা খুলনার উদ্দেশ্যে টিকেট কিনতে পারবেন।
- অন্যান্য স্টেশন: পথে থাকা যেকোনো বড় স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকেট কেনা সম্ভব।
টিকিট কেনার সময় আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ভালো, বিশেষ করে যদি একাধিক টিকেট কাটেন।
ঢাকা টু খুলনা ট্রেন যাত্রার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
আপনার ঢাকা থেকে খুলনা ট্রেন যাত্রা আরও মসৃণ এবং আনন্দময় করতে কিছু বিষয় মনে রাখতে পারেন। এই টিপসগুলো আপনার ভ্রমণকে আরও সহজ করবে।
- টিকেট আগে থেকে কাটুন: বিশেষ করে ছুটির দিন বা উৎসবের সময় টিকেট পেতে সমস্যা হতে পারে। তাই অন্তত কয়েক দিন আগে টিকেট কেটে রাখুন।
- সময়মতো স্টেশনে পৌঁছান: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। এতে তাড়াহুড়ো এড়ানো যাবে।
- হালকা খাবার ও পানীয়: লম্বা যাত্রায় হালকা খাবার ও পানীয় সঙ্গে রাখুন। ট্রেনের ভেতরে খাবার পাওয়া গেলেও, নিজের পছন্দের খাবার সঙ্গে থাকলে সুবিধা হয়।
- পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন: ভ্রমণের সময় আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা যেকোনো বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন। টিকেট চেকার চাইলে দেখাতে হতে পারে।
- ব্যাগপত্র সাবধানে রাখুন: আপনার ব্যাগপত্র নিজের কাছে বা নির্ধারিত স্থানে নিরাপদে রাখুন। মূল্যবান জিনিসপত্রের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখুন।
- মোবাইল চার্জ করুন: যাত্রার আগে আপনার মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেট সম্পূর্ণ চার্জ করে নিন। ট্রেনের ভেতরে চার্জ দেওয়ার সুবিধা থাকলেও, সব সময় তা কার্যকর নাও থাকতে পারে।
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: ট্রেনের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করুন। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলুন।
ঢাকা টু খুলনা রেলপথে প্রধান স্টেশন ও স্টপেজ
ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়ার পথে ট্রেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামে। এই স্টপেজগুলো যাত্রীদের ওঠা-নামার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সুন্দরবন এক্সপ্রেসের স্টপেজ
সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রাপথে অনেকগুলো স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে কিছু প্রধান স্টপেজ নিচে দেওয়া হলো:
- ঢাকা
- বিমানবন্দর
- জয়দেবপুর
- টাঙ্গাইল
- বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব
- এসএইচ এম মনসুর আলী
- উল্লাপাড়া
- বোরাল ব্রিজ
- চাটমোহর
- ঈশ্বরদী
- ভেড়ামারা
- পোড়াদহ
- আলমডাঙ্গা
- চুয়াডাঙ্গা
- দর্শনা
- কোটচাঁদপুর
- মোবারকগঞ্জ
- যশোর
- নোয়াপাড়া
- দৌলতপুর
- খুলনা
এই স্টেশনগুলোতে ট্রেন কিছুক্ষণের জন্য বিরতি দেয়।
চিত্রা এক্সপ্রেসের স্টপেজ
চিত্রা এক্সপ্রেসও প্রায় একই রুটে চলাচল করে এবং এরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজ রয়েছে:
- ঢাকা
- বিমানবন্দর
- জয়দেবপুর
- টাঙ্গাইল
- বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব
- এসএইচ এম মনসুর আলী
- উল্লাপাড়া
- বোরাল ব্রিজ
- চাটমোহর
- ঈশ্বরদী
- ভেড়ামারা
- পোড়াদহ
- আলমডাঙ্গা
- চুয়াডাঙ্গা
- দর্শনা
- কোটচাঁদপুর
- মোবারকগঞ্জ
- যশোর
- নোয়াপাড়া
- খুলনা
চিত্রা এক্সপ্রেসের যাত্রাপথে এই স্টেশনগুলো প্রধান।
জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের (পদ্মা সেতু রুট) স্টপেজ
পদ্মা সেতু হয়ে চলাচলকারী জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের স্টপেজগুলো তুলনামূলকভাবে কম, যার কারণে এটি দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।
- নওয়াপাড়া
- সিঙ্গিয়া জংশন
- নড়াইল (কিছু ক্ষেত্রে)
- লোহাগাড়া
- কাশিয়ানী জংশন
- ভাঙ্গা জংশন
এই ট্রেনটি ঢাকা থেকে সরাসরি খুলনা রুটে চলে, তাই এর স্টপেজগুলো নির্দিষ্ট।
খুলনার দর্শনীয় স্থানসমূহ: আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা
খুলনা শুধু একটি শিল্পনগরীই নয়, এটি সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবেও পরিচিত। এখানে অনেক আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান রয়েছে যা আপনার ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
খুলনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। এখানে রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এবং আরও অনেক কিছু।
- সুন্দরবন: পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যা ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়।
- করমজল: সুন্দরবনের কাছে অবস্থিত একটি পর্যটন কেন্দ্র, যেখানে কুমির প্রজনন কেন্দ্র এবং হরিণ দেখা যায়।
- দুবলার চর: সুন্দরবনের একটি বিখ্যাত শুঁটকি পল্লী, যেখানে প্রতি বছর রাস পূর্ণিমার মেলা বসে।
- কটকা ও হিরণ পয়েন্ট: সুন্দরবনের গভীরের এই স্থানগুলো বন্যপ্রাণী দেখার জন্য আদর্শ।
- রূপসা নদী: খুলনার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীটির পাড় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সান্ধ্যকালীন ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয়।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান
খুলনায় রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির নিদর্শন।
- খান জাহান আলী সেতু (রূপসা সেতু): রূপসা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি খুলনার একটি প্রতীক। এর ওপর থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য মন মুগ্ধ করে তোলে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরালয় (দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স): বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ি হিসেবে পরিচিত এই স্থানটি ইতিহাস ও সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ আকর্ষণ।
- শিরোমণি স্মৃতিসৌধ: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত এই স্মৃতিসৌধটি খুলনার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সৌধ: মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের স্মৃতিতে নির্মিত এই সৌধটি তার আত্মত্যাগের প্রতীক।
- খুলনা জাদুঘর: এই জাদুঘরে খুলনা ও এর আশেপাশের অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং ঐতিহাসিক বস্তু সংরক্ষণ করা হয়েছে।
- স্যার পি.সি. রায়ের বাড়ি: প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের পৈতৃক বাড়িটি দেখতে পারেন।
- ধামালিয়া জমিদারবাড়ি: এটি খুলনার আরেকটি ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ি, যা স্থাপত্যপ্রেমীদের আকর্ষণ করে।
বিনোদনমূলক স্থান
পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর জন্য খুলনায় কিছু বিনোদনমূলক স্থানও রয়েছে।
- বনবিলাস চিড়িয়াখানা: বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পাখি দেখতে পাবেন এখানে।
- শহীদ হাদিস পার্ক: শহরের মাঝে একটি সুন্দর পার্ক, যেখানে স্থানীয়রা অবসর সময় কাটাতে আসে।
- রানা রিসোর্ট: পরিবার নিয়ে ছুটি কাটানোর জন্য একটি চমৎকার জায়গা।
- ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক: শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড ও খেলার ব্যবস্থা রয়েছে।
- মোংলা বন্দর: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর, যা দেখতে বেশ আকর্ষণীয়।
অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার সাথে তুলনা: ট্রেন কেন সেরা?
ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়ার জন্য ট্রেন ছাড়াও বাস এবং বিমান ভ্রমণের বিকল্প রয়েছে। প্রতিটি মাধ্যমেরই নিজস্ব সুবিধা-অসুবিধা আছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ট্রেন ভ্রমণ সেরা পছন্দ হতে পারে।
ট্রেন বনাম বাস
বাসে ভ্রমণ তুলনামূলকভাবে কম খরচে হলেও, আরাম ও নিরাপত্তার দিক থেকে ট্রেন এগিয়ে।
| বৈশিষ্ট্য | ট্রেন | বাস |
|---|---|---|
| সময় | ৩.৫-৯.৫ ঘণ্টা (রুট অনুযায়ী) | ৬-১০ ঘণ্টা (যানজট সাপেক্ষে) |
| আরাম | বেশি আরামদায়ক, পা ছড়ানোর জায়গা | কম আরামদায়ক, সীমিত জায়গা |
| নিরাপত্তা | বেশি নিরাপদ | তুলনামূলকভাবে কম নিরাপদ |
| খরচ | মাঝারি | কম |
| যানজট | যানজট মুক্ত (রেলপথ) | যানজটের ঝুঁকি বেশি |
| পরিবেশ | কম দূষণকারী | বেশি দূষণকারী |
ট্রেন বনাম বিমান
বিমান ভ্রমণের সময় কম হলেও, খরচ এবং অন্যান্য ঝামেলার কারণে অনেকেই ট্রেন পছন্দ করেন।
| বৈশিষ্ট্য | ট্রেন | বিমান |
|---|---|---|
| সময় | ৩.৫-৯.৫ ঘণ্টা (রুট অনুযায়ী) | ৩০-৪৫ মিনিট (উড়ানের সময়) + বিমানবন্দর যাতায়াত ও চেক-ইন সময় |
| আরাম | আরামদায়ক | দ্রুত কিন্তু সীমিত জায়গা |
| নিরাপত্তা | বেশি নিরাপদ | খুব নিরাপদ (তবে দুর্ঘটনা মারাত্মক) |
| খরচ | মাঝারি | অনেক বেশি |
| সুবিধা | শহরের কেন্দ্র থেকে যাত্রা, লাগেজ সুবিধা | শহরের বাইরে বিমানবন্দর, লাগেজ সীমাবদ্ধতা |
দেখা যাচ্ছে, আরাম, নিরাপত্তা এবং সময় ও খরচের ভারসাম্যের দিক থেকে ট্রেন ভ্রমণ একটি সেরা পছন্দ। বিশেষ করে পদ্মা সেতু দিয়ে নতুন ট্রেন চালু হওয়ায় এখন সময়ও অনেক কম লাগে।
ঢাকা থেকে খুলনার ট্রেন যাত্রা এখন আর শুধু একটি ভ্রমণ নয়, এটি একটি অভিজ্ঞতা। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে চলা ট্রেন আপনাকে দেবে এক নতুন অনুভূতি। সঠিক পরিকল্পনা এবং এই গাইড অনুসরণ করে আপনার খুলনা ভ্রমণ হোক আনন্দময় ও স্মরণীয়। আর দেরি না করে, আপনার পরবর্তী ঢাকা-খুলনা ট্রেনের টিকেট আজই কেটে ফেলুন এবং উপভোগ করুন এই অসাধারণ যাত্রা!
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
ঢাকা থেকে খুলনা যেতে কতক্ষণ লাগে?
পদ্মা সেতু হয়ে নতুন রুটে জাহানাবাদ এক্সপ্রেসে প্রায় ৩ ঘন্টা ৪০ মিনিট সময় লাগে। পুরনো রুটে সুন্দরবন বা চিত্রা এক্সপ্রেসে প্রায় ৯ ঘন্টা ৩০ মিনিট সময় লাগতে পারে।
ঢাকা থেকে খুলনা রুটে কোন কোন ট্রেন চলে?
ঢাকা থেকে খুলনা রুটে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে: সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস এবং জাহানাবাদ এক্সপ্রেস।
ট্রেনের টিকেট কি অনলাইনে কাটা যায়?
হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেটিং ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটা যায়।
পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-খুলনা ট্রেনের টিকেটের সর্বনিম্ন মূল্য কত?
পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-খুলনা ট্রেনের শোভন চেয়ারের টিকেটের সর্বনিম্ন মূল্য ৪৪৫ টাকা।
ঢাকা-খুলনা রুটের ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কোনটি?
সুন্দরবন এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ বুধবার, চিত্রা এক্সপ্রেসের সোমবার এবং জাহানাবাদ এক্সপ্রেসেরও সাপ্তাহিক বন্ধ সোমবার।